বর্ষ উন্নয়ন পরীক্ষার রুটিন  |  ঈদ উল আযহা'র ছুটি   |  ২০২৬ সালের ছুটির তালিকা   |  HSC Exam 2026 [ Routine ]  |  সরকারি নোটিশ সংক্রান্ত  |  ঈদ মোবারক   |  

প্রকাশনা

Displaying 1-1 of 1 result.
Picture
Posted: May 11, 2026, 9:46:38 PM

শ্যামল গাঁয়ে ... ...

 

 

শ্যামল গাঁয়ে আলোকবর্তিকা

বায়রা কলেজ

 

বায়রা একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল। এর পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ২৯২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪৪ মিটার গড় প্রস্থ বিশিষ্ট্য নদী ধলেশ্বরী। এ নদীতে এক সময় বড় বড় স্টিমার চলাচল করত। বৃটিশ শাসনামলে এখানে পাটের অফিস ছিল। পাট অফিসের দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার ছিলেন মিস্টার অল্টন এবং তারই নামানুসারে বায়রা’র পূর্ব নাম ছিল অল্টন গঞ্জ। কালের বিবর্তনে নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় এখানকার পাট অফিস নারায়ণ গঞ্জে স্থানান্তর করা হয়।

বায়রা’র ভূখণ্ড বিখ্যাত জজ বাড়িকে ধারণ করে গৌরবান্বিত। বর্তমানে সরকারের অধীনে থাকা জজ বাড়িটির মূল মালিক ছিলেন শশী ভূষণ সেন। তিনি নিজে এবং তার দুই ছেলে গিরিজা ভূষণ সেন ও বিনয় ভূষণ সেন এ তিন জনই তৎকালীন বৃটিশ আমলে এ দেশীয়দের জন্য রক্ষিত সর্বোচ্চ পদে জেলা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আর এ কারণেই এ বাড়িটির নাম জজ বাড়ি। শশী ভূষণ সেন গান-বাজনা ও খেলাধুলায় এ অঞ্চলকে সব সময় মুখরিত করে রাখতেন। বলতেই হয়, এ সেন পরিবারের উত্তরসূরিরাই কলকাতা তথা ভারতীয় চলচিত্রের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র। পাট অফিস, নীল চাষ ও সংস্কৃতির জন্যই মূলতঃ বায়রা তথা অল্টন গঞ্জ পশ্চিমাদের মুখে মুখে ছিল।

 

৫.৬৩ বর্গ কিমি আয়াতনের বায়রাতে প্রায় ২৫০০০ জনগণ, অনিল রায় ও লীলাবতী রায় দম্পতিদ্বয়ের অবদান বায়রা উচ্চ বিদ্যালয়, দেওয়ান আহাম্মদ আলী ও দেওয়ান হেলাল উদ্দিন (সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুলের বাবা) এর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল কবি কাজী নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়, আমীর উদ্দিন মাস্টার ও নাজিমুদ্দিন দরবেশের স্মৃতি চিহ্ন চর জামালপুর আলিয়া মাদরাসাকে বিবেচনায় রেখে, মুক্তি যুদ্ধের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অটুট রাখার নিমিত্তে ১৯৯৩ সালে আইসিটি বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার এ মান্নান খান স্থানীয় বীর মুক্তি যোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, শিক্ষানুরাগি ও হিতৈষীদের সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বায়রা কলেজ।

 

তৎকালীন সরকারের এ অঞ্চলের সংসদ সদস্য সাবেক শিল্প মন্ত্রী জনাব শামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়ার চরম অনাগ্রহের কারণে কলেজটি অর্থনৈতিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়। তার পরেও বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে সদ্য বের হওয়া শিক্ষকমণ্ডলী তাদের তারুণ্যের সবটুকু দিয়ে কলেজটি দাড় করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান।  ১৯৯৬ – ২০০১ সেশনের জাতীয় সংসদের হুইপ অধ্যক্ষ আব্দুস সহিদ কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে আসেন এবং মাননীয় হুইপের আন্তরিক সহযোগীতায় কলেজ অর্থনৈতিক স্বীকৃতি পায় এবং শিক্ষকমণ্ডলী নিয়মিত বেতন ভাতাদি পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন।

 

 

চার দিকে সবুজে ঘেরা শ্যামল গাঁয়ে ০৩(তিন) একর ৩০(ত্রিশ) শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত কলেজে রয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্ণার সমেত  আয়তনের বিশাল গ্রন্থাগার; প্রতিটি আয়তনের ছাত্রী বিশ্রামাগার; কম্পিউটার

ল্যাব এবং সাইয়েন্স ল্যাব। যার প্রত্যেকটিতে প্রবেশ করলেই বুঝা যায়, এগুলো শুধু আরোপিত নিয়ম-নীতির জন্যই ব্যবস্থা করা হয়নি; যথা রীতি ব্যবহারও হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা’র “বাল্য বিবাহকে না বলুন” ও “ যে মুখে মা হয়, সে মুখে মাদক নয়” আন্দোলনের সহযাত্রী হিসেবে বায়রা কলেজে পড়া-লেখার পাশাপাশি বাঙ্গালী জাতির অমূল্য সম্পদ সংস্কৃতির চর্চা এখানে নিয়মিত হয়। সংস্কৃতি কমিটির বিভিন্ন উপকমিটি সারা বছর হামদ, না’ত, তেলাওয়াত, উপস্থিত বক্তব্য, বিতর্ক, গান ও নাটিকা পরিচালনা করে থাকেন। বাল্য বিবাহের কুফল ও মাদকের ভয়াবহতার উপর বছরে তিন থেকে চারটি সেমিনার হয়। এ সেমিনারে মাঝে মাঝে উপজেলা প্রশাসন কিংবা থানা প্রশাসনের কর্মকর্তা উপস্থিত থাকেন।

“সুস্থ্য দেহে সুন্দর মন” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এখানে যথারীতি খেলাধুলা পরিচালনা করা হয়। ক্রীড়া কমিটি কলেজের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে ইনডোর-আউট ডোর ক্রীড়ার বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনা করেন। বছর শেষে জানুয়ারী কিংবা ফেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে “বাৎসরিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান” নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা আরো বৃদ্ধি পায়।

ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কণ্ঠ শিল্পী জনাব মমতাজ বেগমকে মনোনীত করেন এবং ২০১০ খ্রিস্টাব্দে বায়রা কলেজে বাৎসরিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র আসন অলংকৃত করেন। দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রায় পুরোটাই উপভোগ করেন এবং বাল্য বিবাহের কুফলের উপর নাটিকা মঞ্চস্থ হওয়ায় তিনি আনন্দে আপ্লুত হয়ে বায়রা কলেজকে নিজের কলেজ হিসেবে ঘোষণা দেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী মূহুর্মূহু করতালির মাধ্যমে এমপি মহোদয়কে অভিনন্দন জানান।

বায়রা কলেজ একটি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীর পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল; আর এ সমস্থ শিক্ষার্থীরাই উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া লেখা করার সুযোগ করে নিতে পারে। আর বাকী সিংহভাগ শিক্ষার্থী তাদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে উচ্চ মাধ্যমিকে কৃতিত্বের সহিত পাশ করলেও ঝরে পড়ে যায়। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে তারা জেলা শহর কিংবা উপজেলা শহরে যেয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। বায়রা কলেজ ডিগ্রী পর্যায়ে উন্নীত হলে এ সকল শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে দেশের সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদেরকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারে।

মোহাম্মদ আলী

  সহকারী অধ্যাপক (উচ্চতর গণিত), বায়রা কলেজ।